ঢাকা, ৬ মে ২০২৬, বুধবার

ইফতারে খেজুরের যত উপকারিতা




Warning: Attempt to read property "cname" on bool in /home/agribart/public_html/article.php on line 22

এগ্রিবার্তা ডেস্ক


Deprecated: Creation of dynamic property DateInterval::$w is deprecated in /home/agribart/public_html/func/common-func.php on line 63

(১ বছর আগে) ২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ১২:২৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৫ অপরাহ্ন

agribarta

রমজান মাসে ইফতারে খেজুর খাওয়ার বিষয়টি আমাদের মুসলিম সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম খেজুর দিয়েই রোজা ভাঙেন। কিন্তু কেন বিশেষভাবে খেজুরই রোজা ভাঙার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে? এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় গুরুত্ব ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা—দুটোই।

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সাধারণত খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙতেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

"রাসূলুল্লাহ (সা.) মাগরিবের নামাজ আদায়ের আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকত তবে শুকনো খেজুর দিয়ে, আর যদি তা-ও না থাকত তবে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।" (আবু দাউদ: ২৩৫৬)

রাসূল (সা.)-এর এই সুন্নাহ অনুসরণ মুসলিমদের জন্য বরকতের কারণ। খেজুর দিয়ে ইফতার করার মাধ্যমে আমরা রাসূল (সা.)-এর অনুপম আদর্শকে লালন করি এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করি।

খেজুর শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং স্বাস্থ্যগত কারণেও অত্যন্ত উপকারী। দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের গ্লুকোজ লেভেল নিচে নেমে যায়, যা ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং শরীরের দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ) থাকে, যা খুব দ্রুত শরীরে শোষিত হয় ও শক্তি ফিরিয়ে আনে।

খেজুরে আরও রয়েছে আঁশ, যা হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং স্নায়ুবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে, কিন্তু খেজুর সেই ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এটি দেহে প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেশন বজায় রাখে এবং শরীরে পানিশূন্যতা পূরণেও সহায়তা করে।

খেজুরের আরও কিছু উপকারিতা

  • এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
  • খেজুর রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
  • এটি প্রাকৃতিকভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

কেন রাসূল (সা.) পানি দিয়ে রোজা ভাঙতেন, যখন খেজুর না থাকত?

পানি শরীরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দীর্ঘ সময় পানাহার বন্ধ থাকায় শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। তাই রাসূল (সা.)-এর এই অভ্যাস প্রমাণ করে যে, তিনি শরীরের প্রয়োজনীয় চাহিদার প্রতি গভীরভাবে মনোযোগী ছিলেন।

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা নিছক একটি ধর্মীয় অনুশাসনই নয়; বরং এটি মানবদেহের জন্য একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ও। খেজুরের সহজপাচ্য শর্করা, পুষ্টিগুণ ও তাৎক্ষণিক শক্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা এটিকে ইফতারের জন্য আদর্শ খাবারে পরিণত করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করতে গিয়ে আমরা শরীরের প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিচ্ছি—এতে রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ।


Warning: Attempt to read property "cname" on bool in /home/agribart/public_html/article.php on line 52
থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

agribarta
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
মৎস্য আহরণকারীরা কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন