মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বকনিষ্ঠ 'বীর প্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী এটিএম খালেদ। তার স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি সংস্কার করা হয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সংস্কার করা স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন বাকৃবি উপাচার্য। এটিএম খালেদের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সময় তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক, রেজিস্ট্রার ড. মো হেলাল উদ্দীন, ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বীরপ্রতীক এটিএম খালেদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন ও পরবর্তী সময়ের কিছু স্মৃতিচারণ করেন। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে এ.টি.এম খালেদের দেশপ্রেম, ত্যাগ ও বীরত্বগাথা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির পক্ষ থেকে এটিএম খালেদের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
প্রসঙ্গত, বীর প্রতীক এটিএম খালেদ ১৯৫৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাকৃবির স্নাতক প্রথম বর্ষের কৃষি অনুষদের ছাত্র ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন। তিনি ১৯৭৩-৭৪ সালের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের (বাকসু) নির্বাচিত ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল ও হকিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানে 'ব্লু' খেতাবপ্রাপ্ত খেলোয়াড় ছিলেন। বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৮০ সালের ১১ জানুয়ারি বাকৃবিতে ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ হারান। তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের সংগঠনের প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি স্মরণ করে থাকে।
