নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজনে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সীমান্তবর্তী ভীমপুর মাঠে বিশাল সোলার প্যানেল স্থাপন করে আলু ও মাছ চাষ করছে একজন প্রান্তিক চাষী। খোলাকাগজবিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাড়ে ৪ লক্ষাধিক টাকা খরচ করেও সার্বক্ষণিক প্রয়োজন মাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে মাছ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য চাষাবাদ। বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে গভীর নলকূপের সাহায্যে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিলেও সীমানা জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। সেচ লাইসেন্স পেতে সরকারি অফিস ঘুরেও কাজের কাজ হচ্ছে না। মাছ চাষের পাশাপাশি কৃষি ফসল উৎপাদনে গভীর নলকূপ স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন ভুক্তভোগী এ চাষী।
উপজেলার বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আলহাজ্ব খলিলুর রহমানের বড় ছেলে আব্দুল বাছেদ মন্ডল মাছ চাষের পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছর প্রায় ১’শ বিঘা জমিতে উন্নতমানের মিউজিকা জাতের বীজ আলু চাষ করেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার ‘আরএসবি এগ্রো ফার্ম’ সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় বিশাল এলাকা জুড়ে আলুর চাষ করা হয়েছে। পাশেই ১০ বিঘা আয়তনের পুকুরে মাছ চাষ করা হলেও ৪ বিঘার পুকুরে শুধু পোনা মাছ চাষ করা হয়। জমি থেকে আলু গাছ কেটে ফেলে দেওয়া হলেও এখনো মাটির নিচ থেকে আলু তোলা হয়নি।
ফার্ম ম্যানেজার মো. মুনছুর মিয়া এর কারণ জানান, যেহেতু আলুগুলো শুধু বীজ করা হবে সেহেতু গাছ কাটার ১০-১৫ দিন পর আলু উঠালে আলুর চামড়া বা খোসা মোটা, পুরো ও শক্ত হয়। এমনটি করলে বীজগুলো ভালো থাকবে ও সংরক্ষণে সুবিধা। জমি তৈরি, বীজ বপন, সার কীটনাশক, শ্রমিক, যাবতীয় বাবদ প্রায় ৫০ লক্ষ্ টাকা খরচ হয়। বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৮০ মণ বীজ আলু পাওয়া যাবে। বাজারে আলুর দাম পেলে ভালো লাভের আশা করছি। মাছ চাষ, আলু চাষ ও আমন-ইরি ধান চাষাবাদে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানি সরবরাহ হয়। সুর্যের আলো যতক্ষণ- পানি ততক্ষণ, এতে ফার্মের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
ফার্মের মালিক বাছেদ মন্ডল বলেন, এত টাকা ব্যয় করেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে ফার্মটি করা সম্ভব হচ্ছে না। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে যেটুকু সম্ভব তা যেন দইয়ের স্বাদ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা মাত্র। সেচ লাইসেন্সের আবেদন করেছি কিন্তু সীমানা জটিলতায় আটকে আছে।
আমার ফার্মটি সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক পানির সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলতি বছর উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস চাষীদের প্রণোদনা প্রদান ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
