ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার

ইরি ও বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত দিনাজপুরের কৃষকরা



কৃষি

বাসস

(৯ ঘন্টা আগে) ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার, ৬:৩৭ অপরাহ্ন

agribarta

উচ্চ ফলনের আশায় ইরি ও বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা। জেলার ১৩ টি উপজেলায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

দিনাজপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলার ১৩ উপজেলায় শীত উপেক্ষা করে ইরি-বোরো চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকেরা। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম চলবে।

তিনি বলেন, কৃষকেরা ভোর হতেই ঠাণ্ডা পানিতে নেমে বোরো ধানের চারা তুলে সেই চারা জমিতে রোপণ করছেন। ইরি ও বোরো চাষের জন্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে জমি। ভোর রাত থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত বোরো জমি প্রস্তুত করতে কৃষকেরা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছেন। আগাম আলু উত্তোলনের পর ওই জমিতে রোপণ করছেন ইরি ও বোরো ধানের চারা। গ্রামে গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও ফসল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমের বোরো ধান চাষে অধিক ও ভাল ফলন পাওয়ার আশায় জেলা কৃষি অধিদপ্তরের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের কাছে গিয়ে ধান চাষে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

জেলার সবগুলো উপজেলায় কৃষি বিভাগের উদ্ভাবন করা উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা তৈরি করে ইরি ও বোরো ধান চাষ করা হচ্ছে। ধান চাষে সার্বিক পরিচর্যার জন্য কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া করা হচ্ছে। যে-সব কৃষক আমন ধান কাটার পর আলু বা সরিষা চাষ করেননি, তারা আগাম সেসব জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন। ইরি ও বোরো ধানের মধ্যে কৃষি বিভাগের নতুন উদ্ভাবন করা ভ্যারাইটি হাইব্রিড ও উফসী জাতের ধান এবারে বেশি আবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন ভ্যারাইটি  হিরা-১, হিরা-২, সোনার বাংলা, বি-ধান ২৮, ব্রী-২৯, ব্রী-৮১, ব্রী-৭৪, ব্রী-৮৯ ব্রী-৯০ ও ব্রী-১০২ সহ স্থানীয় জাতের কিছু ধান চাষ বেশি হচ্ছে।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, জেলার ১৩ টি উপজেলায় এবার ইরি ও বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় কৃষকেরা শান্তিপূর্ণ ভাবে যথাসময়ে ইরি ও বোরো চারা রোপণ করছেন। এবারে জেলায় ইরি ও বোরো ধান চাষের যোগ্য মাঠের জমি শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহে সেচ যন্ত্রের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এবারে বোরো ধানের ব্যাপক উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের কৃষি উপকরণ সরবরাহ সহজ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান চাষের প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ সহজে সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলার বাফার রাসায়নিক সার গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১২৬ জন বিসিআইসি রাসায়নিক সার ডিলার রয়েছে। কৃষকদের সার ক্রয় সুবিধার্থে, একজন ডিলারের অধীনে অতিরিক্ত ৩ জন সাব ডিলার দেওয়া হয়েছে। সঠিক মূল্যে যাতে কৃষকেরা তাদের চাহিদামতো সার ক্রয় করতে পারে, সে বিষয়টি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। 

এবারে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ইরি ও বোরো ধানের চাষ অর্জিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকেরা রঙিন স্বপ্ন দেখছেন। ধানের চারা বড় হয়ে ফসলে ভরে উঠবে তাদের গোলা।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগাম চারা রোপণ করায় ক্ষেতে ফসল ভালো উৎপাদন হয়। আর সারি সারি করে ধানের চারা রোপণ করার ফলে পরিচর্যায় স্বস্তি মেলে। এছাড়া ক্ষেতে রোগ-বালাই কম হওয়ায় অন্যান্য ফসল থেকে শতকরা ২০ ভাগ উৎপাদন বেশি হবে। 

তারা বলেন, বীজ, সার সবকিছুর দাম বেশি। শ্রমিকের মজুরি বেশি। সার ও বীজের দাম সহনীয় হলে ধান চাষ করে আরও লাভ পাওয়া যেত। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে সময় মতো চারা রোপণ করতে না পারলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না। তাই চারা রোপণ শুরু করা হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে শীতে বীজ তলার তেমন ক্ষতি না হওয়ায় কৃষকেরা বেশ স্বস্তিতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৬০ ভাগ বোরো ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোরো ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম শেষ হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান চাষ বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। উৎপাদিত ফসল থেকে গতবারের তুলনায় আরো অধিক ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। 

উল্লেখ্য, গত বছর বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে ইরি ও বোরো ধান চাষ করা হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৮ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন চাল।