ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার

কাঁঠালের বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টি উপাদান তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন গাকৃবির



গবেষণা

বাসস

(৩ ঘন্টা আগে) ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

agribarta

দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের রাজধানী বলা হয় গাজীপুরকে। বিশেষ করে শ্রীপুর ও কাপাসিয়ার লাল মাটিতে উৎপাদিত কাঁঠাল দেশজুড়ে বিখ্যাত। 

প্রতি বছর এ জেলাসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। ভরা মৌসুমে এই বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থার কারণে এর একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে কাঁঠালের বীজ, খোসা ও অবশিষ্টাংশ ফেলে দেওয়া হয় বর্জ্য হিসেবে। অথচ কেবল কাঁঠালের বীজেই লুকিয়ে রয়েছে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টি উপাদান।

কাঁঠালের বীজ, খোসা ও অবশিষ্টাংশ ফেলে দেওয়া কৃষিজ এ বর্জ্যকে উচ্চমূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) বিজ্ঞানীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রখ্যাত খাদ্যবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. এমদাদুল হক এবং তার স্নাতকোত্তর গবেষক মো. আকরাম হোসেন যৌথ গবেষণার মাধ্যমে কাঁঠালের বীজ থেকে ঘনীভূত খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (মিনারেল কনসেন্ট্রেট) তৈরির অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। যুগান্তকারী এ উদ্ভাবন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট অর্জন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় তিন বছরের দীর্ঘ গবেষণা শেষে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রযুক্তিটি সফলভাবে উদ্ভাবিত হয়। 

‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে নতুন নামকরণের পর এটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মোট উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ২১টিতে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রযুক্তি বাণিজ্যিকীকরণের ইতিহাসে এক বড় অর্জন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত শুকনো কাঁঠালের বীজে খনিজ উপাদান থাকে প্রায় ২ শতাংশ। তবে উদ্ভাবিত এই বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে খনিজের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশেরও বেশি ঘনীভূত করা সম্ভব, যা মূল উপাদানের তুলনায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ বেশি।

মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, হাড় ও দাঁতের গঠন, রক্ত তৈরি, স্নায়ু ও পেশির কার্যকর পরিচালনা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে খনিজ উপাদানের ভূমিকা অপরিসীম। পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতি এখনও দেশের বহু মানুষের পুষ্টিহীনতার অন্যতম কারণ। উদ্ভাবিত এ মিনারেল কনসেন্ট্রেট বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে মিশিয়ে সহজেই খাদ্যের পুষ্টিগুণ বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বাসসকে বলেন, এটি শুধু একটি পেটেন্ট অর্জন নয়; বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণায় এটি একটি নতুন মাইলফলক। আমাদের গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, ফেলে দেওয়া কৃষিজ বর্জ্যকেও উচ্চমূল্যের সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। গবেষণাগারের এ উদ্ভাবনকে শিল্পের উপযোগী করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহার উপযোগী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো. এমদাদুল হক বাসসকে জানান, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে দেশে নতুন ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য তৈরির পথ উন্মুক্ত হবে। এতে খাদ্য অপচয় ও পরিবেশ দূষণ কমবে, কাঁঠালভিত্তিক নতুন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং কৃষকরা তাদের ফসলের বাড়তি দাম পেয়ে লাভবান হবেন।

গবেষণা থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ