বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) দেশের ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মোট ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৭ টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। মওকুফ কার্যক্রমের আওতায় অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার কর্তৃক ঘোষিত ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় মওকুফকৃত মোট অর্থের প্রায় ৩৯ শতাংশই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ক্ষুদ্র অঙ্কের কৃষিঋণ অনেক কৃষকের জন্য আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারের মন্দা এবং অন্যান্য আর্থিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে তারা নতুন করে কৃষিঋণ গ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সারাদেশে তথ্য যাচাই, হিসাব সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যোগ্য কৃষকদের এ সুবিধার আওতায় আনে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশ এককভাবে বিতরণ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ঋণ মওকুফের ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়ে আবারও নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কৃষিঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ব্যাংকের মতে, এ উদ্যোগ কৃষকদের চাষাবাদে নতুন উদ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান, সময়োপযোগী আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ব্যাংকটি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ঋণ মওকুফ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
