কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের শোলাকান্দি এলাকায় শখের বশে গড়ে তোলা একটি আঙুর বাগান এখন স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিকল্পনা শেষে আঙুর চাষ শুরু করেন মোজাম্মেল হক। নতুন বাগানেই গাছে গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরতে শুরু করায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিতে বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে সুরক্ষিতভাবে আঙুরের বাগান গড়ে তুলেছেন মোজাম্মেল হক। নিচু জমি চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বালি ও পলিমাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। পরে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে একুনো, বাইকুনো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও বরতুকাল জাতের ১৪৪টি আঙুরের চারা এনে গত ১৬ মার্চ রোপণ করেন। প্রতিটি চারার দাম ছিল ৪০০ টাকা। চারা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, ইউটিউবে মহেশপুরের এক আঙুরচাষির বাগান দেখে উৎসাহিত হয়ে সরেজমিনে তা দেখতে যান। এরপর নিজেই আঙুর চাষে নামেন। রোপণের আড়াই মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। অতিবৃষ্টি ও বাগান নতুন হওয়ায় এবার ফলন কিছুটা কম হতে পারে। তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তার মতে, একটি আঙুরগাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।
মোজাম্মেলের ছেলে আরাফাত হক সোহান বলেন, আঙুরের পাশাপাশি তার বাবা শখের বশে রামবুটান, পেঁপে এবং ইতালি থেকে আনা কয়েকটি বিদেশি ফলের চারাও রোপণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্লা বলেন, বাগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বাগানটি দেখতে আসছেন।
বাগান দেখতে আসা শামীম, মাইনুদ্দিন ও সুমন বলেন, দেশে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারিত হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, কৃষক লাভবান হবেন এবং সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে এসব ফল কিনতে পারবেন।
এদিকে একই উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের আরেক যুবক আবুল হোসাইন শাহেদও শখের বসে ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি বছরের মে মাসে ৫০ শতাংশ জায়গায় সাড়ে ৫ শ' চারা রোপণ করেছে। মাত্র দুই মাসে অনেক গাছে আঙ্গুর ধরেছে। এছাড়াও তিনি আঙ্গুরের পাশাপাশি আনারকলির চারা রোপণ করেছে।
এ বিষয়ে চারবারের রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত-এআইপি বলেন, দেশে বিদেশি ফলের চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ, কারিগরি দিকনির্দেশনা ও তদারকি অত্যন্ত জরুরি। এতে কৃষক সঠিকভাবে বাগান পরিচর্যা করতে পারবেন, ফলনও বাড়বে এবং এ ধরনের উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও উৎসাহ যোগাবে।
তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শাহেদের বাগান পরিদর্শন করে পরামর্শ দিয়েছি এবং মোজাম্মেল হকের আঙুর চাষের বিষয়টি কৃষি বিভাগের জানা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাগানটির কার্যক্রম তদারকি করা হবে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন। লিখেছেন, জুয়েল রানা, তিতাস (কুমিল্লা)
