ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার

‘জলবায়ু স্মার্ট কৃষি’ নিয়ে গবেষণা করছেন আলী



গবেষণা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ বছর আগে) ২৭ জানুয়ারি ২০২৫, সোমবার, ৯:০৫ পূর্বাহ্ন

agribarta

গবেষণা শুধুমাত্র তথ্য অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া নয়; এটি এক নতুন দিগন্তে পৌঁছানোর স্বপ্ন। যুগে যুগে মানুষ এই স্বপ্নকে সামনে রেখে অজানাকে জানার এবং অদেখাকে আবিষ্কারের পথ ধরে এগিয়েছে। যে সমাজ গবেষণার সঙ্গে যত বেশি সম্পৃক্ত, সে সমাজ উন্নতির চূড়ায় পৌঁছেছে। কিন্তু আমাদের দেশে গবেষণার প্রতি উৎসাহ এবং উদ্যোগ এখনো সীমাবদ্ধ। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু স্বপ্নবাজ তরুণ গবেষণার আলো জ্বালিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিতুমীর কলেজের আলী আহমদ তাদের মধ্যে একজন উল্লেখযোগ্য নাম।

আলীর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র হলো ‘জলবায়ু স্মার্ট কৃষি’। তার ভাষায়, “আমি এমন একটি পদ্ধতিতে কাজ করছি, যা একদিকে কৃষির উৎপাদন বাড়াবে এবং অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হবে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ পদ্ধতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং কার্যকর হবে বলে আমার বিশ্বাস।”

তিতুমীর কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি আলী ‘তিতুমীর কলেজ রিসার্চ ক্লাব’-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ক্লাবটি শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং গবেষণার প্রাথমিক জ্ঞান প্রদানের জন্য কাজ করে। সদ্য বিদায়ী সভাপতি আলী বলেন, “নতুনরা এখানে গবেষণার হাতেখড়ি নিচ্ছে এবং নিজেদের ধারণাগুলো বাস্তবায়ন করার সুযোগ পাচ্ছে। গবেষণার প্রতি উৎসাহ জাগিয়ে তোলার জন্য ক্লাবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

আলীর গবেষণার সাফল্য এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর মধ্যে একটি হলো সুইডেন দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত ফেলোশিপ। তিনি জানান, “পুরো বাংলাদেশ থেকে মাত্র দশজনকে এ ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। আমি তিতুমীর কলেজের স্নাতক পর্যায়ের ছাত্র হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেছি, যা কলেজের জন্যও একটি বিরল গর্ব।”

তবে এই যাত্রা সহজ ছিল না। আলী জানান, স্নাতকের প্রথম বছর ড্রপ দেওয়ার ঝুঁকি নিতে হয়েছিল তাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে আমি বুঝতে পারি যে, প্রস্তুতি ছাড়া সামনে এগোনো ভুল হবে। তাই আমি কিছুটা বিরতি নিয়ে নিজেকে তৈরি করেছি।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলী বলেন, “গবেষণার মাধ্যমে দেশের জন্য বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখি। তিতুমীর কলেজ আমার প্রেরণার জায়গা। আমার সাফল্য শুধুমাত্র আমার নয়, এটি পুরো কলেজের সম্মান। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকভাবে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে আরও উন্নত জ্ঞান অর্জনের পরিকল্পনা করছি।”

গবেষণা থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ