ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৬, বুধবার

তামাক ছেড়ে বরই চাষে মাহবুবের বছরে আয় ১২ লাখ



ক্যারিয়ার

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ বছর আগে) ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শনিবার, ৯:৩০ পূর্বাহ্ন

agribarta

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে দুলছে সুস্বাদু বরই। হলুদ আভার বল সুন্দরী, আপেল কুল, বাউকুল ও কাশ্মীরী কুলের গাছ ঘিরে কৃষক মাহবুব মেম্বারের বাগান যেন এক সবুজ স্বপ্নের রাজ্য। পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পুরো বাগান ঘেরা হয়েছে নেট দিয়ে। শ্রমিকরা ব্যস্ত বরই সংগ্রহে, আর স্থানীয়রা ভিড় করছেন সরাসরি তাজা বরই কেনার জন্য।

এক সময় তামাক চাষ করলেও, বর্তমানে লাভজনক ফল চাষের পথে হেঁটেছেন মাহবুব মেম্বার। নিজের ১ একর ৬০ শতক জমিতে ৮৫০টি বরই গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন। এবার তিনি আশা করছেন প্রায় ১২ লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারবেন। প্রথমবার বাগান তৈরিতে খরচ হয়েছিল ৪ লাখ টাকা। গত বছর বরই বিক্রি করে আয় করেছিলেন ৭ লাখ টাকা, আর এ বছর লক্ষ্য আরও বড়।

তার বাগানে প্রতিদিন ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করেন। বাগানের নিয়মিত শ্রমিক দীপু ত্রিপুরা জানান, প্রতিদিন সকালেই গাছের পরিচর্যা করা হয়। মাটির অবস্থা দেখে প্রয়োজনে পানি দেওয়া হয়, আগাছা পরিষ্কার করা হয় এবং মাটি নরম করে গাছের বৃদ্ধির সহায়তা করা হয়। তার মতে, বরই চাষ শুধু কাজ নয়, এটি তাদের জীবিকারও অংশ।

মাহবুব মেম্বার মনে করেন, যদি সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পান, তাহলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। তবে পরিবহন সমস্যা ও ন্যায্য মূল্য পাওয়া এখনো চ্যালেঞ্জ। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও সহায়তা পেলে বরই চাষ আরও লাভজনক হবে এবং দেশীয় ফলের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদিন জানান, সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বরই চাষে কৃষকরা ভালো মুনাফা করতে পারেন। কৃষক মাহবুব মেম্বার তামাক ছেড়ে দুই বছর আগে বরই বাগান গড়ে তুলেছেন এবং কৃষি অফিস থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেন, "উঁচু, রোদেলা জমিতে বরই চাষ বেশি ভালো হয়। সূর্যের আলো যত বেশি পড়বে, ফল তত মিষ্টি হবে। রোগবালাইও কম হবে। নতুন কেউ বরই চাষে আগ্রহী হলে আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেব।"