ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৬, বুধবার

সবজি চাষে অনেকের অনুপ্রেরণা কৃষক তমিজ উদ্দিন



ক্যারিয়ার

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ বছর আগে) ১৭ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৯:১৮ অপরাহ্ন

agribarta

চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকেই বেছে নিয়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার নওধার গ্রামের পরিশ্রমী কৃষক তমিজ উদ্দিন। আধুনিক প্রযুক্তি, জৈব পদ্ধতি ও সরকারি সহায়তায় তিনি এখন এলাকার এক অনুকরণীয় নাম। প্রায় দেড় একর জমিতে মৌসুমী সবজি আবাদ করে যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তেমনি অনুপ্রাণিত করেছেন আশপাশের অনেক কৃষককে।

তমিজ উদ্দিনের সফলতার অন্যতম কারণ—স্থানীয় কৃষি অফিসের কারিগরি সহায়তা ও তার দুই শিক্ষিত ছেলের কৃষিকাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ। ছেলেরা—রেজাউল করিম ও সিরাজুল ইসলাম শামীম—দুইজনেই আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহী। রাসায়নিক সার এড়িয়ে জৈব পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করেই তারা বছরে কয়েক লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখছেন।

রবি মৌসুমে তার চাষ করা সবজির মধ্যে রয়েছে—টমেটো, বেগুন, লাউ, শসা, মরিচ ও পেঁয়াজ। এসব ফসল উৎপাদনে তিনি ব্যবহার করছেন ভার্মি কম্পোস্ট সার, সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক, যা পরিবেশবান্ধব ও খরচ-সাশ্রয়ী। এর ফলে তার জমির মাটির উর্বরতাও বজায় রয়েছে।

তমিজ উদ্দিন জানান, কৃষি অফিসের সহায়তায় সম্প্রতি ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় তাকে ১০ শতক জমিতে একটি পলিনেট হাউজ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি সারা বছর ধরে উচ্চমূল্যের সবজি ও গুরুত্বপূর্ণ চারা উৎপাদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণার অংশ হিসেবে পেয়াজ ও বেগুন চাষে তমিজ উদ্দিনকে মডেল কৃষক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে বীজ, কেঁচো সার ও প্রশিক্ষণ সরবরাহ করে তাকে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “তমিজকে দেখেই আমরা সবজি চাষ শুরু করেছি। তার ছেলে-মেয়েরাও চাষে সহযোগিতা করে। উনার কথা এখন সবার মুখে মুখে।”

ত্রিশাল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন, “তমিজ উদ্দিন একজন নিবেদিত ও সফল কৃষক। তাই তার ওপর আস্থা রেখে আমরা পলিনেট হাউজের মাধ্যমে তাকে আরও সম্প্রসারিত উৎপাদনের সুযোগ করে দিয়েছি।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন বলেন, “তমিজ ভাইয়ের শ্রম ও পরিকল্পনা দেখে আমরা আশাবাদী যে তিনি কৃষিক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারবেন।”

প্রমাণিত হচ্ছে, পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও প্রযুক্তি একত্রে থাকলে গ্রামে বসেই কৃষিকাজে আনা যায় স্থায়ী সফলতা।