ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার

মাটিবিহীন কৃষিতে নতুন দিগন্ত: টাইটান এগ্রোর চারার গল্প



গবেষণা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১১ মাস আগে) ২৬ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার, ৫:৫৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৯:০৭ অপরাহ্ন

agribarta

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ভাটই বাজারের পাশে অবস্থিত টাইটান এগ্রো নার্সারি বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্লাস্টিকের ট্রেতে সারিবদ্ধভাবে শোভা পাচ্ছে নানা প্রজাতির সবজির চারা। মাটির স্পর্শ ছাড়াই ‘কোকোপিট’ নামক আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।

কোকোপিট পদ্ধতিতে নারিকেলের ছোবড়া ও জৈবসারের মিশ্রণে বীজ বপন করা হয়, ফলে চারা পোকামাকড়ের আক্রমণমুক্ত ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে। উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে সবজির চারা উৎপাদনে সফল হয়েছেন।

২০২১ সালে করোনাকালীন সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেলে কৃষির প্রতি আগ্রহী হন তিনি। শুরুতে নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অনলাইনে কাঁচামাল কিনে ৫ হাজার চারার সামর্থ্যে কাজ শুরু করেন। এখন তার নার্সারিতে তিন লাখ চারা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

টাইটান এগ্রো নার্সারিতে কলা, টমেটো, মরিচ, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, স্কচ, লেটুসপাতা, পেঁপে, লাউ, ফুলকপি, গাজর, মিষ্টি কুমড়া ও বাধাকপিসহ ১৫ থেকে ২০ রকমের সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। শুরুতে বাজারে খুব বেশি সাড়া না পেলেও বর্তমানে প্রতি মাসে তিন থেকে চার লাখ টাকার চারা বিক্রি করছেন সাইদুর রহমান। তার চারাগুলো শুধু স্থানীয় কৃষকদের চাহিদাই পূরণ করছে না, দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

নার্সারিতে বর্তমানে ৫ জন শ্রমিক কাজ করেন, যাদের প্রত্যেককে মাসিক ১৮-২০ হাজার টাকা বেতন প্রদান করা হয়, ফলে তাদের জীবনেও এসেছে স্বচ্ছলতা।

চারা কিনতে আসা কৃষক আকরাম হোসেন বলেন, টাইটান এগ্রো থেকে ভালো মানের সবজির চারা পাওয়া যায়, এজন্য তিনি এখান থেকেই চারা সংগ্রহ করেন। আরেক কৃষক সজিব হাসান জানান, ভালো বীজ বা চারা সংগ্রহের ঝামেলা এখন অনেকটাই কমেছে এই নার্সারির কল্যাণে।

নার্সারির ম্যানেজার জানান, টাইটান এগ্রোর মূল লক্ষ্য হলো উন্নতমানের, সুস্থ সবল চারা উৎপাদন। এখানে পলিনেট শেডের মধ্যে কোকোপিট ব্যবহারের ফলে চারাগুলোর মৃত্যু হার কম, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকিও নেই। ফলে চারা সমানভাবে বেড়ে ওঠে এবং কৃষকদের জন্য চাষ অনেক সহজ হয়।

উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান জানান, একজন কৃষকের একটি সবজির চারা তৈরি করতে ৩৫-৪০ দিন সময় লাগে এবং বিভিন্ন ধরনের সার ও পরিচর্যার দরকার হয়। কিন্তু টাইটান এগ্রো কৃষকদের সেই পরিশ্রমের বড় একটি অংশ কমিয়ে দিচ্ছে।

কোকোপিট পদ্ধতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে নারিকেলের ছোবড়া পানিতে ভিজিয়ে, শুকিয়ে, জীবাণুমুক্ত করে তারপর প্লাস্টিকের ট্রেতে বিছিয়ে বীজ বপন করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে চারা গজিয়ে ওঠে এবং ২৫-৩০ দিনের মধ্যে মাটিতে রোপণের উপযোগী হয়ে যায়।

যদিও বাজারের প্রচলিত চারা থেকে টাইটান এগ্রোর চারা কিছুটা দামি, তবে মৃত্যুহার কম হওয়ায় কৃষকেরা বেশি লাভবান হচ্ছেন বলে জানান সাইদুর রহমান। নিজের কৃষিকাজের পাশাপাশি কৃষকদের উন্নতির কথা চিন্তা করেই তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নার্সারি পরিচালনা করছেন।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্ঠীর চন্দ্র রায় জানান, টাইটান এগ্রো আধুনিক কোকোপিট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে সফলতার পরিচয় দিয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত চারা সুস্থ সবল হয়, ফলে ফলনও বেশি হয়। কৃষকদের মধ্যে এই চারা ক্রয়ের আগ্রহ বাড়ছে। এ ধরনের পদ্ধতি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষিতে আরও ভালো ফলন অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

গবেষণা থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ