শরীরে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সাহস ও স্বপ্নে ছিল না কোনো ঘাটতি। নিজের জীবনের লড়াইকে কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছেন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম। ছোটবেলায় ভুল চিকিৎসায় একটি হাত হারালেও হারাননি আত্মবিশ্বাস। এবার নিজ বাড়ির আঙিনায় বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে পেয়েছেন বাম্পার ফলন।
শরিফুলের সাত কাঠা জমিতে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে একোলো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বোসহ ৮টি বিদেশি জাতের আঙুর। ১৪ মাস আগে একটি প্রতিবেশীর কাছ থেকে আনা চারা গাছ দিয়েই শুরু করেছিলেন এই যাত্রা, যা এখন ছড়িয়ে পড়েছে ৩৫টি গাছে।
এই সফলতার পেছনে আছেন তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার মিম। দুজনে মিলে পরিচর্যা করেছেন বাগান, আর এখন সেই বাগানই হয়ে উঠেছে তাদের জীবনের আশ্রয় ও আয়ের উৎস।
শরিফুল বলেন, “এক সময় মুদি দোকান চালাতাম, অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। আঙুর চাষে সফলতা এসেছে, এখন যদি বাজারে ভালো দাম পাই, তবে সত্যিকারের লাভবান হব।”
শারমিন বলেন, “আগে ব্যবসা না চললে না খেয়েই দিন কাটত। এখন এই আঙুর চাষ আমাদের সন্তানের পড়ালেখাতেও সহায়তা করবে।”
শরিফুল-মিম দম্পতির উদ্যোগে মুগ্ধ এলাকাবাসী। তাঁরা বলছেন, দেশের মাটিতে বিদেশি ফলের সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছেন শরিফুল—এই সফলতা অনুপ্রেরণা দেবে আরও অনেককে।
কৃষি বিভাগও পাশে আছে। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন,
“দেশে অনেক জায়গায় আঙুর চাষ হচ্ছে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিষ্টতা থাকে কম। যদি শরিফুলের চাষকৃত আঙুরে পর্যাপ্ত মিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে। কৃষি বিভাগ এরকম উচ্চমূল্যের চাষ বাড়াতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।”
