পুষ্টিগুণে ভরপুর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণসম্পন্ন এক অনন্য খাবার—মাশরুম। আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে এর চাহিদা বাড়ছে দ্রুত। আর এই সম্ভাবনাময় খাতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার করুয়াতলী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ফয়জুল গনী।
আইনের ছাত্র ফয়জুল নিজের আগ্রহ, অধ্যবসায় আর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন ‘বারী মাশরুম কর্নার’ নামে একটি সফল খামার। শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়—স্থানীয় কয়েকজনের জন্যও তৈরি হয়েছে আয়ের সুযোগ। প্রতিদিন তার খামার থেকে উৎপাদিত হচ্ছে টাটকা মাশরুম, যা পৌঁছে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে ও মানুষের খাদ্যতালিকায়।
ফয়জুলের খামারে গেলে দেখা যায় নিরিবিলি পরিবেশ—ফলগাছে ঘেরা আঙিনা, একটি ঝিল যেখানে হাঁস ভেসে বেড়াচ্ছে, পাশে পেঁপেবাগান, আর এক কোণে ছিমছাম মাশরুম ঘর। সেখানে র্যাকভর্তি থলে থলে মাশরুম—যা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমন স্বাস্থ্যসম্মত।
তিনি জানান, “২০২৪ সালের শেষের দিকে ঢাকার জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিই। এরপর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, উপকরণসহ সব সহযোগিতা পাই। এখন আমার খামারে প্রতিদিন ৩-৪ কেজি মাশরুম উৎপাদন হয়, যা পাইকারি দরে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। আশা করি শীতকালে তা ১০-১২ কেজি পর্যন্ত যাবে।”
মাশরুম চাষে আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। খড়, কাঠের গুঁড়া, কাগজ, গমের ভুসি—এসব সহজলভ্য উপকরণেই চাষ সম্ভব। ঘরের বারান্দা বা অব্যবহৃত জায়গাতেও এটি সফলভাবে করা যায়। ফলে এটি এখন অনেক তরুণের জন্য বেকারত্ব দূর ও আয় বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠছে।
জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন, ৫৭-৬০ গ্রাম ভিটামিনসহ রয়েছে উপকারী চর্বি, মিনারেল ও আঁশ। এটি স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, বার্ধক্য রোধ করে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
স্থানীয় তরুণ মো. সাদমান বলেন, “আগে ভাবতাম ব্যাঙের ছাতার মতো কিছু চাষ করছে। পরে বুঝলাম এটা খুবই পুষ্টিকর ও লাভজনক। আমিও ফয়জুল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে শিখতে চাই।”
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, “ফয়জুল গনী মাশরুম চাষে একজন সফল উদ্যোক্তা। আমরা তাকে বীজঘর, ইনকুলেশন চেম্বার, র্যাক, ভ্যানসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ দিয়েছি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেছেন।”
