ঢাকা, ১৭ জুন ২০২৪, সোমবার

হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চায় পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন



প্রাণীসম্পদ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক:

(৩ সপ্তাহ আগে) ২৬ মে ২০২৪, রবিবার, ৪:৩৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩৪ অপরাহ্ন

agribarta

করপোরেট কোম্পানি ও আড়তদারদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশে ডিমের দাম বাড়ানো-কমানো হচ্ছে। এ কারণে ডিম উৎপাদনের খরচ তুলতে পারেন না প্রান্তিক খামারিরা। এ অবস্থায় ডিম-মুরগির সংকট কাটাতে বন্ধ খামারগুলোকে উৎপাদনে ফেরাতে সরকারের কাছে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

শনিবার (২৫ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেছেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) নেতারা।

বিপিএর সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি। যাতে বন্ধ হওয়া হাজার হাজার খামার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা নিতে পারে এবং উৎপাদনে ফিরে আসতে পারে। তাহলে দেশের ডিম মুরগির সংকট কখনো হবে না।”

এসময় সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, সারাদেশে হঠাৎ করেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের বাজার অস্থির করা হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কারসাজি। কেননা, তারাই সারাদেশে ডিমের বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণ করেন।

বিপিএ সভাপতি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খামারিদের খরচ সাড়ে ৯ থেকে সাড়ে ১০ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা। আমরা ডিমের এ দাম যৌক্তিক বলে মনে করছি। এখন ডিমের বাজার স্থির থাকায় উৎপাদক (খামারি) ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং ভোক্তাও ন্যায্যমূল্যে ডিম কিনে খেতে পারছে। কিন্তু ডিম ব্যবসায়ী সমিতি এবং করপোরেট কোম্পানিগুলোর কারসাজিতে মাঝে মধ্যে বাজার অস্থির হয়ে যায়। খামারিরা তখন ডিম উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না।

তিনি বলেন, ডিমের বাজারের নিয়ন্ত্রণ আড়তদার এবং করপোরেট কোম্পানিগুলোর হাতে। তারা যখন ইচ্ছা দাম বাড়ান আবার যখন ইচ্ছা দাম কমান। যেমন, হঠাৎ করেই খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমিয়ে ৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আবার হঠাৎ করেই একটা ডিমের দাম ১৩ টাকা হয়ে যায়। প্রতিদিন মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে ও ফেসবুকে পোস্ট করে ডিমের বাড়তি বা কম দাম বাস্তবায়ন করে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি। সারাদেশেই এই দামে ডিম বেচাকেনা হয়।

তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম কমিয়ে সেগুলো কোল্ড স্টোরেজে জমা করে। পরবর্তী সময়ে সেই ডিম আবার বাড়তি দামে বিক্রি হয়। ফলে প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পোল্ট্রি ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছেন। সঙ্গে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে মুরগির বাচ্চা বিক্রি করে বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানি খামারিদের গলা কাটছে।

এসব সমস্যা সমাধানে করপোরেট কোম্পানি, আড়ৎদার, পোলট্রি ফিড, মুরগির বাচ্চা ও ডিমের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবি জানান সুমন হাওলাদার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিএর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাংলাদেশ এসএমই ফোরামের সভাপতি চাষি মামুন, বিপিএ সহসভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার প্রমুখ।