কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় দিগন্তজোড়া ফসলি মাঠে এখন শুধু হলুদের সমারোহ। শীতের সকালের নরম রোদে সরিষা ফুলের মনকাড়া দৃশ্য যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব আল্পনা। গত মৌসুমে বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় এবং সরকারি কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। বাম্পার ফলনের হাতছানিতে তিতাসের কৃষকদের চোখেমুখে এখন স্বস্তির হাসি।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তিতাস উপজেলায় ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। খবর - দিনাজপুর টিভি ডেস্ক।
তবে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। উপজেলার জগতপুর, সাতানী, মজিদপুর, কলাকান্দি ও বলরামপুর ইউনিয়নের মাঠগুলো এখন হলুদে-সবুজে মোড়া।মাছিমপুর গ্রামের কৃষক মতিন জানান, তিনি এবার দুই কানি জমিতে বারি-১৪ ও বিনা-৯/১০ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি কানিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকার মতো। গাছ ও ফুলের অবস্থা দেখে তিনি এবার দ্বিগুণ ফলন ও লাভের আশা করছেন। বলরামপুর গ্রামের আক্তার হোসেন জানান, সরিষা চাষে ক্ষতির ঝুঁকি কম এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রতি বছরই তিনি এই আবাদে যুক্ত হচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে ও প্রণোদনায় কৃষকরা এবার বারি-১৪, ১৫, ১৭, ২০ এবং বিনা সরিষা-৪, ৯ ও ১১-এর মতো উচ্চফলনশীল জাতের আবাদ করেছেন। এতে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা বাড়ে, অন্যদিকে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শস্যের নিবিড়তা বাড়াতে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও বীজ-সার দিয়ে সহযোগিতা করছি। সরকারি প্রণোদনার সঠিক ব্যবহারে এবার তিতাসে সরিষার রেকর্ড উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।”
