ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার

ছত্রাক প্রয়োগে টমেটো চাষ, ব্যাপক সাফল্য



গবেষণা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ বছর আগে) ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, শনিবার, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

agribarta

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. মহিদুল হাসান এবং তার পিএইচডি শিক্ষার্থী মো. শরিফুল ইসলাম জৈব সার ব্যবহার করে টমেটো চাষে নতুন এক গবেষণা পরিচালনা করছেন। তাদের গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিবর্তে বায়োফানজিসাইড ব্যবহার করে টমেটো গাছের বৃদ্ধি এবং ফলন বৃদ্ধি করা।

গবেষণায় দেখা গেছে, একসঙ্গে রোপণ করা হলেও বিভিন্ন বেডে টমেটো গাছের বৃদ্ধি সমান নয়। কিছু গাছ দ্রুত বেড়ে উঠছে, যা রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করেও সম্ভব হয়েছে। গবেষকরা দোকান থেকে সংগ্রহ করা রাসায়নিক সার এবং নিজেদের তৈরি বায়োফানজিসাইড দিয়ে পরীক্ষা করেছেন।

ফলস্বরূপ, বায়োফানজিসাইড প্রয়োগ করা গাছগুলোর বৃদ্ধি অন্যগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত হয়েছে।
শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের গবেষণার উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের মাঝে বায়োফানজিসাইড পৌঁছে দেওয়া।” তারা আশা করছেন যে, এই পদ্ধতিতে টমেটো গাছের ফুল ও ফল উৎপাদনও অন্যান্য গাছের তুলনায় বেশি হবে। ইতোমধ্যে তারা গত বছর সফলতা অর্জন করেছেন এবং এবারও তাদের গবেষণার ফল ইতিবাচক বলে মনে করছেন।

এছাড়া, কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন যে, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উপকারী অণুজীব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা উর্বরতা কমিয়ে দেয়। এই কারণে তারা কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছেন।

গবেষক ড. মহিদুল হাসান জানান, “আমরা বাজারে প্রচলিত রাসায়নিকের চেয়ে কমদামে জৈব ছত্রাকনাশক তৈরির চেষ্টা করছি।” তারা আশা করছেন যে, কৃষকরা এই নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

এদিকে, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার এক খামারের স্বত্বাধিকারী আজাহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তার খামারে পরীক্ষামূলকভাবে জৈব ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এর ফলে ব্রকলির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণা চলমান থাকলেও ইতোমধ্যে তাদের কাজ কৃষকদের মধ্যে আশার আলো দেখাতে শুরু করেছে।

গবেষণা থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ