ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার

ন্যানো বায়োচার সমৃদ্ধ ইউরিয়া



কৃষি

সমকাল এর রিপোর্ট

(১ দিন আগে) ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার, ৭:২৯ অপরাহ্ন

agribarta

বাংলাদেশের কৃষি ও ইউরিয়া সার একে অপরের পরিপূরক। ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিতে ইউরিয়ার কোনো বিকল্প নেই। আবার মুদ্রার উল্টো পিঠে রয়েছে এক হতাশাজনক চিত্র। জমিতে ব্যবহৃত দানাদার ইউরিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশই গাছ গ্রহণ করতে পারে না; বরং তা নানা উপায়ে নষ্ট হয়ে যায়। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। তারা প্রথমবারের মতো উদ্ভাবন করেছেন ‘ন্যানো বায়োচারসমৃদ্ধ ইউরিয়া সার’।

২০২৩ সাল থেকে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে এ গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। গবেষক দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান। এই মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি গবেষক দলে আরও রয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শেখ মনজুরা হক, বাকৃবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহসিনা শারমিন হক, পিএইচডি ফেলো মো. আমজাদ হোসেন এবং বুয়েটের শিক্ষার্থী মো. রোকনুজ্জামান রিপন।

সহজ ভাষায়, বায়োচার হলো অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে উচ্চ তাপে পোড়ানো কৃষিজ বর্জ্য (যেমন ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া) থেকে তৈরি বিশেষ এক ধরনের কার্বন বা কয়লা। এটি স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় পানি ও পুষ্টি ধরে রাখতে পারে। যখন এই বায়োচারকে ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে অতি সূক্ষ্ম কণায় রূপান্তর করে ইউরিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা ‘স্লো রিলিজ’ বা ধীরগতিতে নিঃসরণযোগ্য সারে পরিণত হয়।

এ বিষয়ে কেজিএফের ক্লাইমেট অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সের সিনিয়র স্পেশালিস্ট ড. মো. মনোয়ার করিম খান বলেন, ‘বায়োচার কোটিং থাকার কারণে ইউরিয়া দ্রুত গলে নষ্ট হয় না। বরং গাছ তার প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে। এতে জমির স্বাস্থ্যও উন্নত হয়।’
গবেষকদের উদ্ভাবিত সারটি মূলত ইউরিয়া ও ন্যানো বায়োচারের সংমিশ্রণ। এখানে ইউরিয়াকে ন্যানো স্কেলে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং একে জৈব কয়লা দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. খায়রুল হাসান জানান, ‘আমাদের লিটারেচার রিভিউ ও গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা গেছে, এই ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে প্রচলিত ইউরিয়ার চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কম সার প্রয়োজন হবে। এটি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষা করবে এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ কমাবে।’