www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর গমবীজ পেলেন আছিয়া


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ৯ ডিসেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৮:১৫   কৃষি গবেষণা বিভাগ


সকাল সাড়ে সাতটায় বিএডিসির জেলা বীজ বিক্রয়কেন্দ্রে গমবীজ কিনতে এসেছিলেন আছিয়া বেগম (৫৫)। দীর্ঘ আট ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর বেলা সাড়ে তিনটায় স্বামী, ছেলে আর নিজের নামে করা কৃষি উপকরণ কার্ডের মাধ্যমে তিন বস্তা (প্রতি বস্তায় ২০ কেজি) গমবীজ কিনতে পেরেছেন তিনি। দিনভর কষ্টের পর বীজ হতে পেয়ে যেন সব কষ্ট দূর হয়েছে আছিয়ার।

আছিয়া বেগম পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার বৈরাগীগছ এলাকার বাসিন্দা। এবার গম চাষের জন্য তিন বিঘা জমি তৈরি করেছেন তিনি।

বিকেলে গমবীজের বস্তা হাতে পেয়ে আছিয়া বেগম বলেন, ‘ভেলেদূর (বহুদূর) থেকে সেই সকালে চা খায় আইচ্চু (আসছি) বাপু। সেলা (তখন) থেকে লাইনত দাঁড়ায় আছু। বিকাল হয়ে গেল, এলানে (এখন) বীজ পানু (পেলাম)। কষ্ট হোক, পাইছুতোফের (পেয়েছি তো)।’

শুধু আছিয়া বেগমই নন, আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পঞ্চগড় জেলা শহরের কায়েতপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) জেলা বীজ বিক্রয়কেন্দ্রে গমবীজ কিনতে আসা হাজারো কৃষককে পড়তে হয়েছিল চরম ভোগান্তিতে। বীজসংকটের কারণে সরকার–নির্ধারিত দামে বিএডিসির ডিলারদের কাছে গমবীজ না পেয়ে বিএডিসির বীজ বিক্রয়কেন্দ্রে ভিড় করছিলেন কৃষকেরা।

বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিক্রয়কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে কৃষকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুল হক সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ইউএনও বলেন, বীজ বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে গমবীজ কিনতে আজ এক হাজারেরও বেশি কৃষক এসেছিলেন। এ সময় সেখানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় বারবার লাইন ভেঙে যাচ্ছিল। পরে কৃষকদের পার্শ্ববর্তী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে লাইনে দাঁড় করানো হয়। সেখানে কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড জমা নিয়ে বীজ বিক্রয়কেন্দ্রের গুদাম থেকে গমবীজ সরবরাহ করা হয়। এতে সময় বেশি লেগে যায়।

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিএডিসি দিনাজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলায় এবার ২১ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৬ কেজি বীজের প্রয়োজন ধরে জেলায় এবার গমবীজের চাহিদা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৩৮ মেট্রিক টন। আর বিএডিসি থেকে জেলার জন্য গমবীজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৬০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৮০০ মেট্রিক টন গমবীজ জেলার ১২৫ জন ডিলারের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৬০ মেট্রিক টন বিক্রি করা হচ্ছে বিএডিসির জেলা বীজ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে। ২০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা গমবীজ সরকারিভাবে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৬০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি গমবীজের সরকার-নির্ধারিত দাম ৫৮ টাকা।

কৃষকেরা জানান, প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ১৬ কেজি গমবীজে পরিপূর্ণ চাষ হয় না। প্রতি বিঘায় গমবীজ প্রয়োজন ২০ থেকে ২৪ কেজি। আর ডিলারদের কাছে গমবীজ কিনতে গেলে বলেন, শেষ হয়ে গেছে। এদিকে, সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমবীজ ৫৮ টাকা হলেও বাজারে কিনতে গেলে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। ভালো মানের ও ন্যায্য মূল্যে বীজ পেতেই তাঁরা বিএডিসির বীজ বিক্রয়কেন্দ্রে এসেছেন।

গমবীজ কিনতে আসা পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের বোদাপাড়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম (৫০) বলেন, ‘সকাল সাড়ে আটটায় গমের বীজের জন্য এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দুপুরে একবার ঠেলাঠেলিতে সব বন্ধ হয়ে যায়। পরে আমাদের স্টেডিয়ামে নিয়ে গিয়ে কৃষি কার্ড জমা নিয়েছে। বেলা তিনটার দিকে আমি এবং আমার ভাইয়ের কার্ডের মাধ্যমে ৪০ কেজি (দুই বস্তা) বীজ কিনতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক কষ্টে বীজ কিনতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। আমাদের আরও বেশি বীজ দরকার হলেও জনপ্রতি মাত্র এক বস্তা (২০ কেজি) করে গম বীজ দেওয়া হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএডিসি দিনাজপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক (বীজ বিপণন) আবদুর রশিদ মুঠোফোনে বলেন, এবার গম চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় হয়তো সাময়িকভাবে বিক্রয়কেন্দ্রে ভিড় বেড়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




  এ বিভাগের অন্যান্য