
রমজান মাস সামনে রেখে খেজুরসহ আট পণ্য আমদানির পর মূল্য পরিশোধের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমদানির ৯০ দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীরা এলসির বিপরীতে এসব পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন বলে গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। এর আগে গত রোববার আবশ্যকীয় এসব খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতে এলসি স্থাপনের ক্ষেত্রে নগদ মার্জিনের হার ব্যাংক-গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি ও খেজুর ৯০ দিনের সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় আমদানির সুযোগ পাবেন ব্যবসায়ীরা। ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ সুবিধা মিলবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ডলার সংকটের কারণে এসব পণ্য এলসি খোলার ক্ষেত্রে যেসব অনিশ্চয়তা তা কেটে গেল। বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত এ ব্যবস্থা আসন্ন রমজান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান নিশ্চিত করবে। সেই সঙ্গে দামও থাকবে সহনীয় পর্যায়ে।
এর আগে গত রোববার এফবিবিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে আমদানিতে বাণিজ্যিক ঋণপত্র বা এলসি খুলতে অগ্রাধিকার চান তারা। গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে শুধু আট পণ্যই নয়, এর বাইরেও অনেক আমদানি পণ্য রয়েছে। রমজানের পর ঈদ আসবে। এসব দিক বিবেচনায় এলসি খোলায় যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, এজন্য জরুরি ভিত্তিতে রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোকে ডলার সরবরাহের অনুরোধ করেন তারা। একই সঙ্গে আমদানি ও রফতানিতে ডলারের এক রেটেরও দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত এপ্রিল থেকে আমদানি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ফলে গত বছর প্রতি মাসে এলসি নিষ্পত্তি যেখানে ৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল তা গত নভেম্বরে ৫ বিলিয়নের ঘরে নেমেছে। আর নতুন এলসি খোলার হার ৭ বিলিয়ন থেকে নেমেছে ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, আগামী জানুয়ারি নাগাদ এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির হার কাছাকাছি পর্যায়ে চলে আসবে।
মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অধিকতর সুসংহত রাখার কথা জানিয়ে মোটরকার (সেডানকার, এসইউভি, এমপিভি ইত্যাদি); ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স; স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার; মূল্যবান ধাতু ও মুক্তা; তৈরি পোশাক; চামড়াজাত পণ্য; পাটজাত পণ্য; প্রসাধনী; আসবাব ও সাজসজ্জা সামগ্রী; ফল ও ফুল; নন সিরিয়াল ফুড যেমন অশস্য খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য ও পানীয়; টিনজাত খাদ্য চকোলেট, বিস্কুট, জুস, সফট ড্রিংকস ইত্যাদি; অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়; তামাক, তামাকজাত বা এর বিকল্প পণ্যসহ অন্যান্য বিলাসজাতীয় পণ্যের আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে। এমন নির্দেশনা আগেই দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা আগে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত মার্জিন রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। এমনকি এসব পণ্যের আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের বিপরীতে প্রয়োজনীয় মার্জিন গ্রাহকের নিজস্ব উৎস থেকে গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ এসব পণ্য আমদানিতে ব্যাংক কোনো ধরনের অর্থায়ন করতে পারবে না, এমন নিষেধাজ্ঞাও দেয়া রয়েছে।