www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

চট্টগ্রাম অঞ্চলে আমন ধান উৎপাদন ছাড়াতে পারে ১৬ লাখ টন


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৩:৫৮   কৃষি অর্থনীতি  বিভাগ


চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধান উৎপাদন ১৬ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখনো এ অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান কাটা বাকি রয়েছে। শতভাগ কাটা হলে ২০২০-২১ মৌসুমের ১৬ লাখ ২৫ হাজার টনের রেকর্ড ভাঙা সম্ভব বলে মনে করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে আমনের উৎপাদন ভালো হলেও সরকারি পর্যায়ে ধান-চাল ক্রয়ে এখনো বেশ ধীরগতি দেখা গেছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে ক্ষতি না হলে এবার আমনের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিত বলে মত দেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পর্যায়ে ধান বিক্রিতে কৃষকের হয়রানি, বাজারের তুলনায় দাম কম, সরকারি টাকা পেতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে আগ্রহী নয়। তার বদলে বরং বাজারের আড়তদারদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে পারায় সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারকে ধান ক্রয়ের প্রক্রিয়া আরো সহজীকরণের পরামর্শ দেন তারা।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, ফেনী এবং নোয়াখালী জেলায় সরকারের দেয়া লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৯৩ হেক্টরের বিপরীতে আবাদ করা হয় ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ১১ হাজার ৫৯৯ হেক্টর, উফশী ৪ লাখ ৯২ হাজার ১৩৫ এবং স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ হয় ৭৫ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে। সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ১৬২ হেক্টর জমির আমন কাটা হয়েছে। যার মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৬২ হাজার টন চাল। বাকি সাড়ে ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল কাটা শেষ হলে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১৬ লাখ ২০ হাজার টন চালে। এদিকে গড় ফলনের পরিসংখ্যান বলছে, হাইব্রিড হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৬, উফশী ২ দশমিক ৯৪ এবং স্থনীয় জাতের গড় উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ১ দশমিক ৭১ টন।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় তিন জাতের ধানের মোট আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে উফশী জাতের ধানই আবাদ হয়েছে ১ লাখ সাড়ে ৪৮ হাজার হেক্টরের বেশি। এখন পর্যন্ত এ জেলায় ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির। মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৯ টন চাল। এখনো এ জেলায় প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর আমন কাটা বাকি রয়েছে। কক্সবাজার জেলায় তিন জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ৭৮ হাজার ৪৪৫ হেক্টর আমন। যার মধ্যে উফশী জাতটি হলো ৭৪ হাজার হেক্টর। এখন পর্যন্ত এ জেলায় প্রায় ৯৯ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোট উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ সাড়ে ৩৬ হাজার টন আমন চাল।

এদিকে নোয়াখালী জেলায় মোট আমনের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৬ হেক্টর। ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাটা সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৬০ টন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে এ জেলায় সর্বাধিক ৩৭ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ জেলায় মোট উৎপাদনের পরিমাণ ৪ লাখ ৪১ হাজার ১৩৭ টন চাল। ফেনী জেলায় ৬৬ হাজার ৭৪৮ হেক্টর আবাদের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে ৬৪ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমির আমন ধান। এখন পর্যন্ত কর্তনকৃত জমির মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে দুই লাখ টন চালে। সর্বশেষ লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮০ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমির আবাদের মধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে সাড়ে ৭২ হাজার হেক্টর জমির ফসল। মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার টন চালে।

এদিকে জাতওয়ারি ধানের পরিসংখ্যানে সব থেকে বেশি আবাদ হয়েছে উফশী জাতের ধানের। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২৩ ধরনের। যার মধ্যে বাণীগোল্ড, এজেড৭০০৬, এইচজেড৭০০৬, হীরা এবং এসিআই জাত অন্যতম। উফশী প্রায় ৫৫টি জাতের ধানের আবাদ হয়েছে এ অঞ্চলে। শীর্ষ আবাদ হওয়া জাতগুলো হলো ব্রিধান ৪০, ৪৯, ৫১, ৫২, ৭৫, ৮৭, বিআর ২২, ২৩, স্বর্ণা, হরি, পাইজাম। এছাড়া স্থানীয় প্রায় ৪৫ ধরনের ধান আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে রাজাশাইল, এলেম্ব্রু, কাজলমাইল, কার্তিকশাইল, কালামোটা, মুড়াবাজাল এবং ঘিঘজ অন্যতম।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোফাজ্জল করিম জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় চলতি আমন মৌসুমে বেশ ভালো ফলন হয়েছে। মূলত এ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় উফশী জাতের বিভিন্ন জাতের আবাদ বেশি হয়। তাছাড়া নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম জেলায় অনেক পরিমাণে স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে আমন ধানের উৎপাদন গত মৌসুম থেকে বেশি হবে। দাম নিয়ে যাতে কৃষক অসন্তুষ্ট না হন সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি।

কৃষক দাবি করছেন, সরকারি ধানের দামের সঙ্গে বাজারের ধানের দামের পার্থক্য মণপ্রতি ৮০-১৪০ টাকা বেশি। বাড়ির পাশে বাজার থাকায় সহজেই ধান বিক্রি সম্ভব হয়েছে, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে ধান বিক্রিতে ধানের মান, শুকনা, আর্দ্রতা ইত্যাদি বিবেচনা করে বিক্রি করতে হয়। যার কারণে অনেক কৃষক ধান বিক্রি করতে না পেরে ফিরে আসেন। এতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। তাছাড়া সরকারি টাকা পেতে কিছুদিন সময় লাগে। তাই সরকারের কাছে ধান বা চাল বিক্রিতে অনাগ্রহী কৃষক।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১৭ নভেম্বর থেকে ধান-চাল সংগ্রহের নির্দেশনা ছিল সারা দেশে। কিন্তু চট্টগ্রাম অঞ্চলে ধান কাটা হয় দেশের অনান্য অঞ্চলের শেষের দিকে। ফলে ধান কেনাও শুরু হয় পরে। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে ধান বা চাল কেনা শুরু হবে। আমরা সরকারিভাবে ধান-চাল কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করছি।’




  এ বিভাগের অন্যান্য