
সয়াবিনের উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে চীন। বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। বিশ্বের সয়াবিন বাণিজ্যে বড় অংশজুড়ে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি। চলতি বছরে দেশটি ৯ কোটি ৮০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করেছে। মোট বৈশ্বিক সয়াবিন বাণিজ্যের যা ৬০ শতাংশ। এসব সয়াবিনের বেশির ভাগই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল থেকে। খবর দ্য ওয়েস্টার্ন প্রডিউসার।
বিপুল পরিমাণ চাহিদার কারণে বিশ্বব্যাপী সয়াবিনের দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং এতে সব ধরনের বীজের তেলের দামও বেড়ে যাচ্ছে। ভুট্টা, গম ও চালে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ চীন। কিন্তু দেশটিতে মোট যে পরিমাণ সয়াবিন প্রয়োজন, তার ৮৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। আমদানি করা সয়াবিনগুলো মূলত প্রাণীদের খাবারের জন্য ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া সেটা চীনের অনেক বেশি পরিমাণ শূকর, মুরগি ও মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এ নির্ভরশীলতাকে একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবেই মনে করে চীন, ফলে সরকার তা কমানোর জন্য প্রবল চেষ্টা করছে।
গত জানুয়ারিতে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সয়াবিন উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করে চীন। ফলে ২০২১ সালে যেখানে উৎপাদন ১ কোটি ৬৪ লাখ টন ছিল, সেটা বেড়ে ২ কোটি ৩০ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। ২০২১ সালে উৎপাদন খুবই কম ছিল। সেই বছরে কৃষকরা সয়া চাষ ১৫ শতাংশ কমিয়ে ভুট্টা উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। কারণ উচ্চমাত্রার গড় ফলন পাওয়ায় সেই চাষ অনেক বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে।
চলতি বছরে সয়াবিনের প্রতি সরকারের বর্ধিত সমর্থনের ফলে মোট ভূমির পরিমাণ আবার স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। উৎপাদন অনুমানের মাত্রাও যেখানে সরকারিভাবে ১ কোটি ৯৫ লাখ টন, সেখানে বেসরকারি তথ্য সরবরাহকারী চায়না জেসিআই কনসালটিং বলছে উৎপাদন হবে ১ কোটি ৮০ লাখ টন।
তাছাড়া দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস বলছে, ২০৩১ সালের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে ৩ কোটি ৫১ লাখ টনে আর আমদানি কমে আসবে ৮ কোটি ৬০ লাখ টনে। যেটা চলতি বছরের থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টন কম হবে।
কিন্তু সয়াবিন ও ভুট্টা সাধারণত একই এলাকায় বেড়ে ওঠে, তাই সয়াবিন ছাড়িয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৬ সালে নেয়া পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রতি বছর ভুট্টা চাষের এলাকা দশমিক ৭ শতাংশ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়, পাশাপাশি সেসব ভূমিতে সয়াবিনের চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়। কিন্তু এই সময়ে চীনের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ভুট্টার মজুদ বিপুল পরিমাণে বেড়ে যায়।
যেহেতু চাষের এলাকা কমিয়ে আনা হয়, তাই চাহিদা ও মুজদ অটুট রাখা কঠিন হয়ে যায়। ২০২০-২১ অর্থবছরে চীন ২ কোটি ৯৫ লাখ টন ভুট্টা আমদানিতে বাধ্য হয়, যেখানে ২০১৬-১৭ সালে সংখ্যাটা ছিল ২৫ লাখ টন। একসময় ভুট্টার দাম বেড়ে গেলে কৃষকরা আবার ২০২১-২২ সালে বেশি ভুট্টা লাগানো শুরু করে। তার পরও ভুট্টা আমদানি ২ কোটি টনের বেশি থেকে যায়।