
ব্যতিক্রমী মালচিং ও নেট হাউস স্থাপন করে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে চলছে শীতকালীন শাক-সবজির চাষাবাদ। কৃষকেরা বলছেন, এ পদ্ধতির কারণে ফসল উৎপাদনের খরচ কমে গেছে অর্ধেক। প্রতি ২০ শতক জমিতে গড়ে ৮ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে তাঁদের। ফলে বাড়তি লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা।
গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। ইউনিয়নটির শ্বাশকান্দর গ্রাম ও কবিরাজপাড়া, বড়দহ, হিন্দুপাড়া, বালাপাড়া, খড়খড়িয়া নদীর পার, খোর্দ্দ বোতলাগাড়ী এলাকার খেতে চলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও পেঁয়াজের চাষ।
কবিরাজপাড়ার কৃষক মনোচন্দ্র সরকার (৫০) বলেন, অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ৩০ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেন। সেচ, জৈব সার ও প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা। ওই জমির ফসল উঠেছে ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে। সঙ্গে সঙ্গে তা বিক্রি হয়ে যায় ৯০ হাজার টাকায়। প্রতিটি ফুলকপির (৭৫০ গ্রাম) দাম মিলেছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। একই জমিতে বিনা হালচাষে দ্বিতীয় দফায় আবার আবাদ করছেন সবজির। এখন আর আগের মতো বাজারদর নেই। তবুও লাভ থাকবে ওই ফসল বিক্রি করে। কারণ জমিতে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। কমেছে উৎপাদন খরচ।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান সর্দার বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে চাষের পর জমিতে বেড তৈরি করে এর ওপর পলিথিন বিছিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর পর ওই পলিথিন কেটে ছিদ্র রাখা হয়। যার মাঝ থেকে মাথা তুলে দাঁড়ায় উদ্ভিদ। মালচিংয়ের কারণে জমিতে আর্দ্রতা বা ভেজা ভাব ধরে রাখা হয়। ফলে ওই জমিতে অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হয় না।
খোর্দ্দ বোতলাগাড়ীর স্কুলের ডাঙ্গা গ্রামে কৃষক আলিম উদ্দিন (৪৫) ৩০ শতক জমিতে চাষ করেছেন ফুলকপি। প্রথম দফায় তিনি লাভ করেছেন ৫০ হাজার টাকা। জমিতে ব্যবহার করেছেন জৈব সার। কীটনাশক হিসেবে নীলপাতার পানি, তামাক গুড়া (গুল) ব্যবহার করেছেন। ওই জমিতে খরচ হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। ভালো ফলন মেলায় লাভও হয়েছে। একই মালচিং পদ্ধতির পাশাপাশি তাঁর ৭০ একর জমিতে নেট হাউস স্থাপন করেছেন। নেট হাউসের ভেতরে আবাদ হচ্ছে টমেটো, পেঁয়াজসহ অন্য মৌসুমি ফসল।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাউফুর রহিম বলেন, নেট হাউস পদ্ধতিতে ফসলি জমিতে বিশেষ ধরনের জাল টানিয়ে দেওয়া হয়। যা দেখতে অনেকটা মশারির মতো। ওই পদ্ধতিকে নেট হাউস বলা হয়। নেট হাউস একবার স্থাপন করলে তা থেকে সারা বছর সুফল পাওয়া যায়। আগ্রাসী পোকামাকড় নেটের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কীটনাশকের খরচ কমে আসে।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, পরিবেশবান্ধব কৌশলের কারণে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের মেয়াদ হচ্ছে ১ বছর। সৈয়দপুরের ৫০০ জন কৃষক ২০টি গ্রুপের মাধ্যমে প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করছেন। প্রতিটি গ্রুপে জমির পরিমাণ ৫ একর। প্রতি ২০ শতক জমিতে সাশ্রয় হচ্ছে রাসায়নিক সারের খরচ বাবদ ৩ হাজার টাকা আর কীটনাশক বাবদ ৫ হাজার টাকা।
সৈয়দপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শাহীনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, মালচিং ও নেট হাউস যুগান্তকারী পদ্ধতি। সবুজ কৃষির জন্য ওই পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত কার্যকর। এর মাধ্যমে সেচ খরচ কমবে, নিড়ানি খরচ কমবে, দমন হবে কীটপতঙ্গের উৎপাত। উৎপাদন খরচ কমলে কৃষকেরাই লাভবান হবেন।