
নিষেধাজ্ঞার সুফল পাচ্ছেন কক্সবাজারের জেলেরা। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গেল বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ ইলিশ অবতরণ হয়েছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যমতে, কক্সবাজারে গত এক সপ্তাহে অন্যান্য মাছের সঙ্গে ৩০০ টনেরও বেশি ইলিশ এসেছে।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটসংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে প্রতিদিন সকালেই শতাধিক মাছ ধরা ট্রলার নোঙর করা থাকে। আর এসব ট্রলারের পাশে অবস্থান করে অসংখ্য ছোট ছোট ডিঙি নৌকা। বড় ট্রলার থেকে এসব নৌকায় নামানো হয় মাঝ সমুদ্র থেকে ধরে আনা ইলিশ। আর এসব ইলিশ নিয়ে দ্রুত ঘাটে ভেড়ে ডিঙি নৌকাগুলো। ঝুঁড়িভর্তি করে সে মাছ নামানো হয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।
এফবি রহমান ট্রলারের জেলে শাহাজান বলেন, সাগরে গিয়ে গেল সাতদিন জাল ফেলেছি। জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়েছে ইলিশ। প্রায় চার হাজার ইলিশ নিয়ে অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রির জন্য এসেছি। এখন দ্রুত এসব ইলিশ বিক্রি করে পুনরায় ট্রলারে মালপত্র নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছি। এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের জেলে নুরুল আলম বলেন, সাগরে ইলিশ ধরা পড়ায় আমরা খুশি। আবারো সাগরে যাচ্ছি সাতদিনের জন্য। আশা করি, আরো বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। কারণ সাগরে ভরপুর ইলিশ রয়েছে।
রমিজ নামে এক জেলে বলেন, সাগরে ১০ দিন জাল ফেলে পাঁচ হাজার ইলিশ পেয়েছি। এখন এসব ইলিশ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে সাড়ে ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আমাদের সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা, আর লাভ হয়েছে ৫ লাখ টাকা। সাগরে ইলিশ ধরা পড়লে খুবই আনন্দ লাগে। ট্রলার মালিক মোস্তাক আহমদ বলেন, সাগরে মাছ শিকার করে যেসব ট্রলার উপকূলে ফিরছে, প্রতিটি ট্রলারে ভরপুর ইলিশ পেয়েছি। আমার তিনটি ট্রলার। প্রায় ৩০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেছি। লোকসান অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারব।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বদরুদ্দৌজা বলেন, গত বছর এ সময়ে যে পরিমাণ মাছ অবতরণ হয়েছিল, তার চেয়ে দ্বিগুণ মাছ এবার অবতরণ কেন্দ্রে এসেছে। এতে বোঝা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে।