
বাগেরহাটের ফকিরহাটে তিনদিনব্যাপী ক্লাইমেট ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। ফকিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপজেলার আট্টাকি স্কুল মাঠে এ মেলার আয়োজন করে। গতকাল দুপুরে এ মেলা উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম।
মেলায় বিভিন্ন স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রযুক্তির সঙ্গে বিভিন্ন চাষাবাদের মডেলও উপস্থাপন করেছে কৃষি বিভাগ। মেলার স্টলগুলোতে রয়েছে বারোমাসি ও উচ্চফলনশীল সবজি এবং ফল। তবে মেলার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কৃষক অরুপ ঘোষের ৬৫ কেজি ওজনের মানকচু। প্রায় ৮ ফুট লম্বা কচুটির দাম হাঁকা হয় ৩ হাজার ২০০ টাকা। ৬০-৬৫ কেজি ওজনের আরো কয়েকটি কচু রয়েছে অরুপের পান বরাজের পাশে। এত বড় কচু দেখে অবাক হয়েছেন অনেকে। কচুর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন মেলায় আগত দর্শনার্থীরা।
ফকিরহাট উপজেলার মৌভোগ এলাকার কৃষক অরুপ ঘোষ বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বরাজের পাশে ছাই ও গোবর সার দিয়ে কচু লাগিয়েছিলাম। ১০ কাঠা জমির বরজের পাশে ১৩০টি কচু লাগিয়েছি। বর্তমানে ১০ কেজি থেকে শুরু করে ৬৫ কেজি ওজনের কচু রয়েছে। বাজারে কচুর দাম ও চাহিদা দুটোই ভালো। ৫০-৬০ টাকা করে আমরা প্রতি কেজি কচু বিক্রি করতে পারি। মাত্র দুই বছরেই কচুটির ওজন ৬৫ কেজি হয়েছে। বরজের পাশে পতিত জায়গায় কচু লাগিয়ে আমার ভালোই উপকার হয়েছে।
ফারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের বাড়িতেও বিনা যত্নে কচু হয়। তবে যত্ন করলে কচু এত বড় হতে পারে তা জানা ছিল না। কচুটি দেখে ভালো লেগেছে। অরুপ যে পদ্ধতিতে কচু লাগিয়েছেন আমরাও চেষ্টা করব সেই পদ্ধতিতে কচু লাগানোর।
এদিকে অরুপের কচু ছাড়াও ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি দিয়ে মঞ্চের সম্মুখভাগে তৈরি বৃত্তের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ভিড় জমান মেলায় আগতরা। নানা রকম সবজি দিয়ে তৈরি গোলাকার বৃত্তে আলাদা সৌন্দর্য এনেছে মেলায়। মাঝখানে একটি ফুলকপি, তার চারপাশে টকটকে লাল পাকা টমেটো, তার পরে সবুজ লেবু, তারপরে আবারো টমেটো, টমেটোর পরে ওলকপি, তারপরে বেগুন, তারপরে ফুলকপি, ফুলকপির পরে বাঁধাকপি আবার ফুলকপি দিয়ে শেষ বৃত্ত। বৃত্তের শেষ ভাগে এক পাশে সাদা কাগজের ওপর রঙিন ধান দিয়ে লেখা হয়েছে স্মার্ট ফকিরহাট। যা ফকিরহাটবাসীকে আরো বেশি আকৃষ্ট করেছে। এই বৃত্তের সঙ্গে ছবি তোলাও একটি অনুষঙ্গ ছিল মেলায় আগতদের।
ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাছরুল মিল্লাত জানান, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা এ মেলার আয়োজন করেছি। মেলায় দর্শকদের আকৃষ্ট করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কৃষকদের তাত্ক্ষণিকভাবে নিবন্ধনেরও ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া যেসব সফল কৃষক রয়েছেন তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফসলের প্রদর্শনী রেখেছি আমরা। যাতে অন্য কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হন এসব চাষাবাদে।