www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

কেউ সার পাচ্ছেন কেউ পাচ্ছেন না, চলছে হুড়োহুড়ি


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৮:০৪   কৃষি পণ্য বিভাগ


সারের জন্য সকালবেলা পরিবেশকের গুদামের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন জামালপুরের কৃষক জয়নাল আবেদীন। সদর উপজেলার কেন্দুয়া কালীবাড়ি বাজারে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে জয়নালকে চিন্তিত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গেল। কারণ, জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনু আইছি সহাল (সকাল) সাড়ে সাতটায়, কেউ পাই কেউ পাই না। পারাপারি–হুড়াহুড়ি হইতেছে। দুইবার লাইনে দাঁড়ায়ছি, হুড়াহুড়ির লাইগা সারও পায়নি। এহন বলে সারই নাই, খালি হাতেই বাত (বাসা) যামুগা। বয়ে থাইকা জুরাইতাছিলাম।’

চাহিদামতো সার না পেয়ে জামালপুরে ছোটাছুটি করছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। অথচ কোথাও কোথাও সারের জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করছেন কৃষকেরা। যাঁরা সার পাচ্ছেন, তাঁরাও চাহিদামতো না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। অনেকেই আবার খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘১২০ টেহা ( টাকা) লিটার তেল, ১০০ টেহা দিয়ন (দেওয়া) লাগে মেশিন আলারে, কামলার ময়না (পারিশ্রমিক) আবার নিরেনি (পরিচর্চা), হোগনে (শুকনা) বছর, পানি নাইকে, ঘাস ভইরে খেত বুঝায়, এহন আবার সারের চিন্তা। সার তো দিলেও না, এনি গেলে উনু যাও, উনু গেলে এনু যাও।’

পাঁচ দিন ধরে সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সার নিয়ে বিশৃঙ্খলা চলছে। সার না পেয়ে অনেক জায়গায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও দেখাচ্ছেন তাঁরা। গত রোববার উপজেলার শরিফপুর বাজার এলাকায় জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন কৃষকেরা। পরের দিন উপজেলার নান্দিনা বাজার এলাকায় আবারও একই মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার নরুন্দি বাজারে সার না পেয়ে কৃষকেরা হুড়োহুড়ি শুরু করেন। গতকাল বুধবারও মুকুল বাজার এলাকায় সার না পেয়ে কৃষকেরা হুড়োহুড়ি করেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুটি পরিবেশকের গুদামের সামনে সার বিক্রির কার্যক্রমস্থল ঘুরে প্রায় একই চিত্র পাওয়া যায়। কেন্দুয়া কালীবাড়ি বাজারে সার নিতে আসা বৃদ্ধ কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘কৃষকগরে জ্বালাই হইছে। বিয়ানবেলায় না খাইয়া বাত (বাসা) থাইকে আছি। কত পারাপারি হইল, বুড়া মানুষ পারাপারিও করতে পাইনি, সারও পাইনি। কৃষকগরে মরণ ছাড়া বুদ্ধি দেহিনাতো। কত চাইলাম, সার দিল না, এহন বলে সব সার শেষ।’

কেন্দুয়া বাজার এলাকার মেসার্স ফিরোজ অ্যান্ড ব্রাদাসের স্বত্বাধিকারী ফরহাদ আলীর ছেলে মো. ফাহিম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ১৪০ বস্তা সার পেয়েছেন। তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ। তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে বোঝেন অবস্থাটা কেমন। এখানে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্লিপ দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া স্লিপ অনুযায়ী প্রত্যেক কৃষককে এক বস্তা সার দিচ্ছেন। যাঁরা স্লিপ পেয়েছেন, তাঁরা এখনো সার নিচ্ছেন। স্লিপ ছাড়া সার দেওয়া হচ্ছে না।’

বেলা ১১টার দিকে নারকেলি এলাকায় মেসার্স রুমী ট্রেডার্স নামের একটি পরিবেশক সার বিক্রি করছিল। সেখানে কৃষকেরা চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। যাঁরা পেয়েছেন, তাঁরাও মাত্র ১৫ কেজি করে।

মহন মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, তাঁর পাঁচ বিঘা জমি। এক বস্তা সার দরকার। কিন্তু তিনি ১৫ কেজি সারের জন্য স্লিপ পেয়েছেন। শুক্কুর মাহমুদ নামের আরেক কৃষক বলেন, ৬ বিঘা জমিতে তিনি রোপা আমন লাগিয়েছেন। এর জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে তিনি ঘুরছিলেন, কিন্তু সার পাচ্ছিলেন না। আজ তিনি এক বস্তার জন্য একটি স্লিপ পেয়েছেন। কিন্তু সেটা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

পর্যায়ক্রমে সব কৃষকই সার পাবেন বলে জানিয়েছেন জামালপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকিয়া সুলতানা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সদর উপজেলায় সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ৯২৮ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ৫৮৮ মেট্রিক টন সার উত্তোলন করেছে পরিবেশকেরা। ২৮০ মেট্রিক টন সার এখনো মজুত রয়েছে। বাকিগুলো পরিবেশকেরা বিক্রি করছে। বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুরের জন্য অতিরিক্ত আরও ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে জাকিয়া সুলতানা বলেন, সবকিছু মিলে এ মুহূর্তে সারের কোনো সংকট নেই। কিন্তু কৃষকদের মধ্যে একটা ভীতি কাজ করছে। তাঁরা সার পাবেন না। ফলে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদেরও সচেতন হতে হবে। কৃষকেরা সার পাচ্ছেন।




  এ বিভাগের অন্যান্য